বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন
গৃহবধূকে মধ্যযুগীয় কায়দায় গরম রডের ছ্যাকা দিয়ে নির্যাতন রাইজিংবিডি.কম বরগুনার তালতলীতে জাহানারা বেগম (৪৮) নামে এক গৃহবধূকে ঘরে আটকিয়ে গরম রড দিয়ে ছ্যাকা দেওয়া ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে শ্বাশুরী, ভাসুর ও ননদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের লালুপাড়া গ্রামে। আহত ওই গৃহবধূকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে স্বজনরা শনিবার সকালে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। জাহানারা বেগম জানান, সোনাকাটা ইউনিয়নের লালুপাড়া গ্রামের প্রবাসী আনোয়ার হোসেন হাওলাদার তার আপন ভাই বাবুল হাওলাদারের শ্যালক শাহিন চৌকিদারের ছেলেকে মালায়েশিয়া নেয়ার কথা বলে ৩ লাখ টাকা নেয় ২০২১ সালের ১৬ জুলাই। টাকা নেওয়ার পর তারা শাহিনকে বিদেশে না পাঠিয়ে ঘুরাতে থাকেন। এ নিয়ে পারিবারিক ভাবে তাদের মধ্যে ব্যাপক দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এরপর বাবুল হাওলাদার এবং তার স্ত্রী বাদে পরিবারের সবাই আনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী রাজিয়া বেগমের পক্ষ হয়ে বাবুল হাওলাদার এবং তার স্ত্রী জাহানারা বেগকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করতে থাকে। যাতে তাদের নেওয়া ৩ লক্ষ টাকা ফেরৎ দিতে না হয়। শুক্রবার রাতে জাহানারা বেগম তার জ্যা রাজিয়া বেগমের নিকট টাকা চাইতে গেলে রাজিয়া বেগম, তার শ্বাশুরী সেতারা বেগম, ননদ জেসমিন বেগম ও ভাশুর আবুল হোসেন জাহানারা বেগমকে ঘরে আটকে ব্যাপক মারধর করে। এক পর্যায়ে রড পুরিয়ে গরম করে মধ্যযুগীয় কায়দায় জাহানারা বেগমের ডান গালে, পিঠে, দুই হাতে বাম পায়ে ছ্যাকা দিয়ে গুরুতর জখম করে। রডের ছ্যাকায় জাহানারা বেগমের গাল, হাতপায়ে এবং পিঠের বিভিন্ন জায়গায় ফোসকা পরে কালো দাগ হয়ে ফুলে উঠে। গুরুতর এই নির্যাতনের সময় জাহানারা বেগম ডাক চিৎকার দিলেও ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে শনিবার সকালে জাহানারা বেগমের ভাই হাবিব চৌকিদার তার বোনকে উদ্ধার করে মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে আমতলী হাসপাতালে এনে ভর্তি করেন। জাহানারা বেগমের ভাই হাবিব চৌকিদার অভিযোগ করে বলেন, মালয়েশিয়া প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী রাজিয়া বেগম আমার নিকট থেকে আমার ছেলেকে মালয়েশিয়া পাঠানোর জন্য ৩ লক্ষ টাকা নেয়। ২ বছর অতিবাহিত হলেও আমার ছেলেকে বিদেশেও পাঠায়নি টাকাও ফেরৎ দেয়নি। টাকা চাওয়ার অপরাধে আমার বোন জাহানারাকে বেদম মারধর করে রড পুরে ছ্যাকা দিয়ে গুরুতর আহত করেছে। আমি এঘটনার বিচার চাই। আনোয়ার হোসেন হাওলাদার মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের কাছে কোন টাকা পয়সা পাবে না। এছাড়া জাহানারা বেগমকে আমরা কোন মারধর করিনি। আমাদেরকে হয়রানি করার জন্য এসব মিথ্যা অভিযোগ করছে। আমতলী হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. লুনা বিনতে হক বলেন, জাহানারা বেগমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে লোহা জাতীয় কিছু দিয়ে ছ্যাকা দেয়ার অনেক দাগ রয়েছে। এছাড়াও লাঠি দিয়ে পিটানোর আঘাতও রয়েছে। তার সুস্থ্য হতে অনেক সময় লাগবে। তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী শাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।